Sunday, March 5, 2017

মধ্য রাতের ভদ্র বিনোদন


ইন্ডিয়া আর অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচে ইন্ডিয়ার বড়ই সুকরুণ হার হইছে। সে উপলক্ষে যেন বাংলাদেশে ঈদের আমেজ আসছে।
.
আমার দেখা এই উপলক্ষে দেওয়া সব চাইতে মজার পোষ্ট গুলাঃ
.
১। আরো তো দুই দিন বাকি আছে, ইন্ডিয়াকে আরও দুইবার ব্যাট করতে দেওয়া হোক, হতে পারে আরও দুই রান বেশি নিতে পারবে। -Mr420.bd
.
২। হা ভাই, ৫ দিনের টেস্ট ৩ দিনে শেষ। শুধুমাত্র কোম্পানির প্রচারের জন্য। -Mr420.bd
.
৩। এখানে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র অস্ট্রেলিয়ান "টুট টুট" চলছে। অস্ট্রেলিয়ার "টুট টুটে" আমরা কেউ দাঁড়াতে পারছি না। 
-বিরাট কুলি। -Mr420.bd
.
৪। হারছি তো কি হইছে আগের ইনিংসের চাইতে এবার ২ রান বেশি করছি। সবাই দুইবার করে ব্যাট পাইছি।
-ইন্ডিয়ান টিম। -Mr420.bd
.
৫। মিলে মিশে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ। আপনারা মনে কিছু নিয়েন না। পিচ টা ভালো করে মেরামত করা হয়নি। হালকা বাতাসে সবগুলো উইকেট পড়ে গিয়েছে। 
- ইন্ডিয়ান টিম।
- Srabon 
.
৬। হরভজন সিংকে আপাতত খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। গোপন সূত্রে জানা গেছে তিনি লোকালয় ত্যাগ করে হিমালয়ের গুহায় আশ্রয় নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষের আগে তার সাক্ষাৎকার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। - JH Shd Hossain 
.
৭। পড়েনা চোখের পলক.... ইন্ডিয়ার মর্মান্তিক ঝলক।দোহাই লাগে,অষ্ট্রেলিয়া... একটু দাঁড়াতে দে.... ইন্ডিয়াদের!!!! - Younus Sadman 
.
৮। ভিরাট কোহলি শূন্য রানে আউট হয়ে প্রমাণ করে দিলেন তিনি ভিনগ্রহ থেকে আসেন নাই! তিনিও আমাদের মতো আলু, ডাল, ডিম, ভাত খেয়ে বেঁচে থাকা এক ব্যাচেলর! -Symon Khan 
.
কার কাছে কোনটা ভালো লাগছে বলবেন। 

হিজিবিজি By Rakib Ahmed Ali


এই গভীর রাতে বারান্দার গ্রিল ধরে বছরের প্রথম বৃষ্টির পরশ নেওয়া কি আমার অপরাধ? :/ 
.
.
নাকি ফাল্গুনের এই মিষ্টি পরশভোলানো বাতাসে দাড়িয়ে তোমার কথা মনে পড়াটা অপরাধ? :/ 
.
.
নাকি গ্রিলের বাইরে হাত দিয়ে বৃষ্টির পানিটুকুর ছোঁয়া নেয়াটা অপরাধ? :/ 
.
.
নাকি এই গান শুনে মনটা সুদূরে পাঠিয়ে দেওয়াটা আমার অপরাধ? :/ 
.
.
""ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখ আমার এ হাড়, ছুঁয়ে ছুঁয়ে শেখো একি
চোখ দিয়েছি প্রিয় বন্ধু, সে চোখে দেখ পৃথিবীর রুপ একি।
তবু বন্ধু ভালবেসো একবার, যা ছিল সব দিয়েছি দেবার।
.
..
নাকি এই বৃষ্টির সূত্র ধরে আগের স্মৃতি মনে করাটা আমার অপরাধ? :/ 
.
.
আমি কি ছিলাম? আমি কি তাই আছি? নাকি পাল্টে গেছি? পাল্টে যাওয়াটা কি ভাল হয়েছে? 
এই গুলা ভাবা কি আমার অপরাধ? :/ 
.
.
আমি কি করবো এইটুকু বৃষ্টির ধারা আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে। অনেক কথা মনে পড়ে গেছে আমার জানালার গ্রিল ধরে দাড়াতেই। :/ 
.
.
উপরে যা লিখছি এগুলা যে কি ছিল আমিও নিজেও জানি না। আমার অবচেতন মন যা বলছে আমি এই মুহূর্তে তাই করছি। 

রাকিব যখন র‌্যাম্প মঠেল।


রাকিব যখন র‌্যাম্প মঠেল। :p 
.
.
আমি মনে করছিলাম এইভাবে ব্যাকা তাড়া ভাবে থাকলেই মনে হয় স্টাইল। 
.
.
কিন্তু আমার কোরিওগ্রাফার সাব (মানে এই ছবি যিনি তুলেছেন Bijoy :p ) বললেন এইটা সুন্দর হয় নাই। তোমাকে এই ক্ষেত্রে আসতে হলে আরও অনেক পড়াশুনা করতে হবে। তুমি এখনো মায়ের দুধ খাচ্ছ এই লাইনে। :/ :/ 
উনার ষ্টেজ নাকি এখন এই লাইনের মধ্যে বিবাহিত পর্যায়ে।
.
.
কি দুঃখ, কি কষ্ট। :/ সে যাই হোক আপনারা কিন্তু কেউ লাইক না দিয়ে যাবেন না। আমি আমার কোরিওগ্রাফার সাবকে দেখাই দিতে চাই যে মানুষ আমাকে কতটা লাইক করে। আমি যেভাবেই ছবি তুলি না কেন। 
.
হাসির রিয়েক্ট বেশি থাকলে বুঝব ছবি সুন্দর হইছে। :p 

জয় হোক মানবতার। আপনারা অবশ্যই আমার প্রতি মানবতা দেখাবেন। :p 
 .
জয় বাংলা.....................................................................জয় মানবতা।

কেউ কি আমার যৌবন ফিরিয়ে দিতে পারবে?"


১৬ই ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আলোতে একটা নিওজ কাভার করা হয়। 
যার ক্যাপশনটা ছিল ঠিক এইরকম, "কেউ কি আমার যৌবন ফিরিয়ে দিতে পারবে?" 
.
.
ছবির এই লোকটাই। নাম তার বাবুল। ১৯৯২ সালে তাকে ডেমরা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। আজ থেকে ঠিক ২৫ বছর আগে। থিংক ইট ম্যান। পঁচিশশশশশ বছর আগে। ভাবতেই কেমন গা শিউরে উঠে। 
.
.
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সে নাকি ডাকাতি করছে। মামলার নথিতে লেখা আছে, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলিস্তান থেকে কুমিল্লাগামী একটি বাস ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড়ে পৌঁছালে তিন সদস্যের অজ্ঞাত ডাকাত দল বাসে ডাকাতি করে। এবং ৯ হাজার টাকা ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। ওই বাসের কর্মচারী নজরুল ইসলাম তখন মামলা করেন। 
.
.
কিন্তু মামলা করাই সার, বিচারের এই ২৫ বছরে একবারও মামলার বাদি আদালতে আসে নাই। এবং পুলিশও সাক্ষীদের মধ্যে অধিকাংশকেই হাজির করতে পারে নাই। যার ফল স্বরূপ বাবুল মিয়ার ২৫ বছর ধরে জেলে পচা। 
.
.
তিনি তার দুঃখের কথা বলেন, মা-বাবার সঙ্গে তিনি থাকতেন ডেমরার দোলাইরপাড় (এখন যাত্রাবাড়ী থানার মধ্যে) এলাকায়। সেদিন তিনি ফতুল্লায় যাচ্ছিলেন বন্ধুর কাছে। ডেমরা সেতুর ওপর ট্যাক্সির ভেতরে ছিলেন। হঠাৎ পুলিশ তাঁকে ধরে। পরে রিমান্ডেও নিয়েছিল পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রথম প্রথম মা-বাবা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে আসতেন। এরপর থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তাঁরা। 
.
.
তাঁর বাবা বিমানবাহিনীতে চাকরি করতেন। তাঁর গ্রেপ্তারের পর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বাবা। ১৯৯৫ সালে মারা যান মা। এরপর থেকে আর কোনো দিন ভাই কিংবা বোনকে দেখেননি তিনি। বাবুল ঘুরেফিরে তাঁর মা-বাবার গল্পই বলছিলেন। তিনি বিয়ে করেননি। 
.
.
আর সবচাইতে মজার কথাটা হচ্ছে তিনি যে মামলার আসামি সেই মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ১০ বছর। কিন্তু তিনি জেলে আছেন ২৫ বছর। 
.
.
এই বুধবারে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে খালাস দেওয়ার সময়ও তার অপরাধ নিয়ে এখনো কোন নিশ্চিত না আদালত। সে কি আসলেই অপরাধ করেছে নাকি করে নাই। 
.
.


এটা স্পষ্টতই আমাদের মহান বিচার বিভাগের ব্যর্থতা। পুলিশ বিভাগের ব্যর্থতা। সর্বোপরি আমাদের ব্যর্থতা। কারন আমরা এসব মানুষের কোন খোঁজ রাখি নাই। :/

কেমন আছো?



- এই পারু, শুনছো?

- হু

- কেমন আছো?

- এই নিয়ে ১৪ বার জিজ্ঞেস করলে কেমন আছো। আর কোন কথা নাই?

- ছিল, কিন্তু সব হারিয়ে গেছে।

- কেন?

- কই তুমিও তো কিছু বলছো না?

- তুমি কিন্তু কথা এড়িয়ে যাচ্ছ, আমার প্রশ্নের উত্তর দাও, কেন তোমার সব সব কথা হারিয়ে গেছে?

- জীবনে প্রথম কোন মেয়ের সামনে এভাবে বসে কথা বলছি, এটাই স্বাভাবিক না?

- না, সবার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক না।

- সবার সাথে তো আর আমার তুলনা হয় না। এই পৃথিবীর সবার নিজস্ব স্বকীয়তা আছে। সবাই সবার নিজের মতো। কারো সাথে কারো তুলনা করলে সেটা ভালো কিছু বয়ে এনে না। 


তুমি আমাকে কথা বলতে বলছ, কিন্তু তুমি কি জানো, নৈশব্ধটাও এক ধরনের কথা। এটাও মনের ভাব প্রকাশের একটা মাধ্যম।


- হুম। তাও ঠিক। তবে এইভাবে চুপ করে থাকলে তুমি হয় তো মনে মনে অনেক কথাই বলে ফেলবে। কিন্তু আমি তো ওই কথা গুলো শুনবো না, বুঝবো না।

- আচ্ছা বাদ দাও এইসব ভারী ভারী কথা। কেমন আছো?

- আবার?

Tuesday, February 14, 2017

মিষ্টি প্রেম।


-এই মামা ভাড়া দেন।

-হু?

-ভাড়া দিতে বলছি ভাড়া।

-(কান থেকে হেডফোন খুলে) জি মামা? কি বলছেন আবার বলেন?

-ভাড়া দিতে বলছি। আগেও একবার আসলাম বললেন পরে দিবেন। কিন্তু আর দিলেন না।

-ও, ভাড়া এখনো দি নাই না? কত জানি ভাড়া?

-২৫ টাকা।

-কি যে বলেন মামা, স্টুডেন্ট ভাড়া কত? ধর, ২০ টাকা দিলাম ৫ টাকা ফেরত দাও।

-দূর মিয়াঁ। এমনিতেই কম দিছেন আবার ফেরত চান।

---------------

-এই মামা সকল বাসেই তো স্টুডেন্টদের থেকে হাফ ভাড়া নেয়, আপনারা কেন নিবেন না?

আমি আর বাসের হেল্পার দুজনেই অবাক হয়ে পাশে ফিরে দেখি একটা মেয়ে এই কথা বলছে। এইবার আমিও সাহস পেয়ে বললাম, ঠিকই তো। আপনারা কেন নিবেন না? মগের মুল্লুক পাইলেন নাকি?

-আচ্ছা মামা। সমস্যা নাই। এই ধরেন ৫ টাকা।

-থ্যাংকস, মেয়েটাকে বললাম।

-কেন? হেল্পারকে এই কথা বলার জন্য?

- হু। আপনার অনেক সাহস।

-এই এই আপনি পাশে বসেন ক্যান? কি পাইছেন মিয়া? মনে করছেন একটু সাহায্য করছি দেইখা পাশে বসার পারমিট পেয়ে গেছেন?

-না....আ? হ্যাঁ। জি? না না, কি যে বলেন? আমি তো পিছনেই বসতাম, দেখলাম আরকি আপনি কি বলেন।

-হইছে আর চালাকি করা লাগব না। থাক বসেন, পাশেই বসেন।

ধপ করে বসে ফেলেই দাঁত বের করে একটা লাজুক হাসি দিয়ে বললাম, আপনি আসলে অনেক রোমান্টিক।




------------------
------------------

পরের অংশ আপনারা কল্পনা করেন।

=======

রাকিব আহমেদ আলী।

Friday, February 10, 2017

শুক্রবার, গরীবের জন্য হজের দিন।


আজ শুক্রবার। গরীবের জন্য হজের দিন। সপ্তাহের সেরা দিনও বটে।

এই কয়দিন তো কত ডে ই গেলো। কত ভাবে উদযাপন করলেন, আনন্দ করলেন, বৈধ অবৈধ কত কাজ করলেন। 

কিন্তু কি লাভ হল? দিন শেষে শুধু পকেটটাই খালি হল। আর কিছু না। 

আচ্ছা যাক বাদ দেন ওইসব কথা। 

এই শুক্রবার টাকি ঠিক মতো পালন করতে পারছি আমরা? 

আমার পাশে একটা ছেলে নামাজ পড়তে ছিল, সে সেজদায় গেলো আর তার গলা থেকে একটা হেডফোন খুলে নিচে পড়ে গেলো। আমি অবাক হয়ে গেলাম। এটা কি? নামাজ পড়তে আসলো, এই কয়টা সময়ের জন্যও সে এই দড়িদাড়া গুলা খুলে আসতে পারল না?  


আর এই দিনে তো আমরা দুনিয়ার সব চাইতে ভালো মানুষ হয়ে যাই। 
নোয়াখালীর ভাষায় যাকে বলে, ভালার লাই আত দেন যায় না।  

দুনিয়ার সব কাজে আমরা কে কার আগে যাবো কে কার থেকে সামনে থাকব সেই প্রতিযোগিতা করি, কিন্তু এই দিনে আমরা মসজিদে গেলে মহানুভবতার চরম নিদর্শন দেখাই।

একজন একজনকে বলি, ভাই আপনি সামনে যান, উনি আবার বলে, না ভাই আপনি যান। এই ভাবে চলতে থাকে ভালো মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়া। 

গ্রামে থাকতে দেখতাম সবসময় ফরজ দুই রাকআত পড়ার পরে মুনাজাতের আগে মসজিদে টাকা উঠাতো। 

কিন্তু ঢাকায় এসে দেখলাম অন্য রূপ। এখানে সুন্নাত চার রাকআত পড়ার পরই টাকা উঠানো হয়। কারন ফরজ দুই রাকআতের পরে তো মানুষই থাকে না, টাকা উঠাবে কার কাছ থেকে।  



আর আজকে যেই মসজিদে গেলাম, এতো বিশাল মসজিদ, মানুষও প্রচুর। কিন্তু যেটা সব চাইতে দুঃখজনক ব্যাপার ছিল সেটা হচ্ছে যে যার মতো গল্প গুজব করছে, কথা বার্তা বলছে, পাড়ার চায়ের দোকানের মতো।  





যাক এইসব বলে আর লাভ কি। শুধু শুধুই সময় নষ্ট।  
 
আল্লাহ্‌ আমাদেরকে হেদায়েত দিক। আমিন।
সবাই ভালো থাকবেন।

-
রাকিব আহমেদ